ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
শিরোনাম :
Logo ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে আগুন Logo ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চায় সরকার Logo নির্বাচন আয়োজনে কমনওয়েলথের সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo চ্যালেঞ্জ হলেও গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একদিনে হওয়া উচিত: অর্থ উপদেষ্টা Logo সালমান এফ রহমানের ৩৬ বিঘা জমি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ Logo ফের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা Logo আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন হবে: গভর্নর Logo বিভক্তির কারণে সাংবাদিকেরা রাজনীতিকদের পকেটে ঢুকে যান: মির্জা ফখরুল Logo আকাশের যত তারা, সাংবাদিক নিবর্তনে আইনের তত ধারা: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo ৪১ দেশে ৪১ শতাংশ আইসিইউ রোগীর শরীরে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক: আইইডিসিআর

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 38

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে নতুন করে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে নতুন ‘কূটনৈতিক যোগাযোগের’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নয়াদিল্লির কূটনৈতিক একটি সূত্র ইউএনবিকে জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) খলিলুর রহমান দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে (সিএসসি) অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পরপরই এ ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণবিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানায়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন তখন বলেছিলেন, ‘তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে চিঠি দেব। অবশ্যই একটি অফিশিয়াল লেটার পাঠানো হবে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারত আগের চিঠির জবাব না দিলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ, বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং শাস্তিও হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের ফেরত দিতে ‘ভারত বাধ্য’। এতে আরও বলা হয়, ‘যেকোনো দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’

সেদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে অবগত। বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ভারত ‘বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।

এদিকে আজ রোববার ঢাকায় এক আলোচনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের রীতি ভারত অনুসরণ করেলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া উচিত।

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ শীর্ষক সম্মেলনের একটি অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘হাসিনার বিচার সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশীরা সেই বিচারব্যবস্থাকে সম্মান জানাবে—এটাই প্রত্যাশা।’

ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি উল্লেখ করে মুনিরুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, যদি বাংলাদেশ কিছু ভারতীয়কে ধরে রাখত এবং চুক্তি অনুযায়ী ফেরত না দিত, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হতো।

মুনিরুজ্জামান বলেন, যে কেউ বাংলাদেশি আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে ভারত তাকে ফেরত দিতে আইনগতভাবে বাধ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতকে নতুন করে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে নতুন ‘কূটনৈতিক যোগাযোগের’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নয়াদিল্লির কূটনৈতিক একটি সূত্র ইউএনবিকে জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) খলিলুর রহমান দিল্লিতে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে (সিএসসি) অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পরপরই এ ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণবিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানায়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন তখন বলেছিলেন, ‘তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে চিঠি দেব। অবশ্যই একটি অফিশিয়াল লেটার পাঠানো হবে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারত আগের চিঠির জবাব না দিলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ, বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং শাস্তিও হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্তদের ফেরত দিতে ‘ভারত বাধ্য’। এতে আরও বলা হয়, ‘যেকোনো দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’

সেদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে অবগত। বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ভারত ‘বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।

এদিকে আজ রোববার ঢাকায় এক আলোচনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের রীতি ভারত অনুসরণ করেলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া উচিত।

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ শীর্ষক সম্মেলনের একটি অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘হাসিনার বিচার সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশীরা সেই বিচারব্যবস্থাকে সম্মান জানাবে—এটাই প্রত্যাশা।’

ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি উল্লেখ করে মুনিরুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, যদি বাংলাদেশ কিছু ভারতীয়কে ধরে রাখত এবং চুক্তি অনুযায়ী ফেরত না দিত, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হতো।

মুনিরুজ্জামান বলেন, যে কেউ বাংলাদেশি আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে ভারত তাকে ফেরত দিতে আইনগতভাবে বাধ্য।