ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫
শিরোনাম :
Logo ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে আগুন Logo ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চায় সরকার Logo নির্বাচন আয়োজনে কমনওয়েলথের সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo চ্যালেঞ্জ হলেও গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একদিনে হওয়া উচিত: অর্থ উপদেষ্টা Logo সালমান এফ রহমানের ৩৬ বিঘা জমি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ Logo ফের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা Logo আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন হবে: গভর্নর Logo বিভক্তির কারণে সাংবাদিকেরা রাজনীতিকদের পকেটে ঢুকে যান: মির্জা ফখরুল Logo আকাশের যত তারা, সাংবাদিক নিবর্তনে আইনের তত ধারা: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo ৪১ দেশে ৪১ শতাংশ আইসিইউ রোগীর শরীরে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক: আইইডিসিআর

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়াকে পাশে চায় ঢাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 120

দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থেকে কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে কুয়ালালামপুরের ওপর নির্ভর করছে ঢাকা।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রত্যাশার কথা জানান।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রয়েছে রোহিঙ্গা আশ্রয়দানের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে আসিয়ানে নেতৃত্বের আসন। ফলে আঞ্চলিক এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় দেশটি অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর সংঘাত রোহিঙ্গা সংকটকে আরও গভীর করছে। ফলে নতুন করে শরণার্থীরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি জানান, মাত্র ১৮ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে থেকে থাকা ১২ লাখ রোহিঙ্গাসহ মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থী সহায়তার তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে।

সংকট সমাধানে আগামী কয়েক মাসে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আগস্টের শেষে কক্সবাজারে প্রথম সম্মেলন
সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বছরের শেষে কাতারের দোহায় তৃতীয় সম্মেলন

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমননীতির কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

যদিও ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী নয়, তবু মানবিক কারণে মালয়েশিয়া প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে দেশটির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়াকে পাশে চায় ঢাকা

আপডেট সময় : ১২:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থেকে কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে কুয়ালালামপুরের ওপর নির্ভর করছে ঢাকা।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রত্যাশার কথা জানান।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রয়েছে রোহিঙ্গা আশ্রয়দানের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে আসিয়ানে নেতৃত্বের আসন। ফলে আঞ্চলিক এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় দেশটি অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর সংঘাত রোহিঙ্গা সংকটকে আরও গভীর করছে। ফলে নতুন করে শরণার্থীরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি জানান, মাত্র ১৮ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে থেকে থাকা ১২ লাখ রোহিঙ্গাসহ মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থী সহায়তার তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে।

সংকট সমাধানে আগামী কয়েক মাসে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আগস্টের শেষে কক্সবাজারে প্রথম সম্মেলন
সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বছরের শেষে কাতারের দোহায় তৃতীয় সম্মেলন

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমননীতির কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

যদিও ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী নয়, তবু মানবিক কারণে মালয়েশিয়া প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে দেশটির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।