ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

এনবিআরের ৪১ অতিরিক্ত কমিশনারকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 61

একদিনেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৪১ অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এনবিআরের কর প্রশাসন থেকে এ—সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেছেন প্রথম সচিব (কর প্রশাসন) মো. মোসাদ্দেক হুসেন।

অবিলম্বে তাঁদেরকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের বদলির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি আদেশে।

বদলি আদেশের তালিকায় রয়েছেন—বিসিএস (কর) একাডেমির পরিচালক হাফিজ আল আসাদকে ঢাকার কর অঞ্চল-২০-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১, শেখ শামীম বুলবুলকে নরসিংদী কর অঞ্চল, ছায়িদুজ্জামান ভুঞাকে নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চল, বেগম হাসিনা আক্তার খানকে গাজীপুর কর অঞ্চল, মর্তুজা শরিফুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-৬, মোহা. আব্দুস সালামকে ঢাকার কর অঞ্চল-১, মো. নাসেরুজ্জামানকে ঢাকার অঞ্চল-২, মো. মিজানুর রহমানকে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-১, মো. নাঈমুর রসুলকে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-২, ফখরুল ইসলামকে খুলনা কর অঞ্চল,

আশরাফুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-৩, মোহাম্মদ শাহ্ আলমকে ঢাকার কর অঞ্চল-৪, মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাতকে ঢাকার কর অঞ্চল-১১, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে খুলনা কর আপিল অঞ্চল, মিজানুর রহমানকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৫, মো. মঈনুল হাসানকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, ইভানা আফরোজ সাঈদকে ঢাকার কর অঞ্চল-৮, তাহমিনা আক্তারকে ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-৩, শামীমা পারভীনকে এনবিআরের সিআইসি।

এছাড়া সাহেদ আহমেদ চৌধুরীকে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে, ফারজানা সুলতানাকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৪, শামীমা আখতারকে ঢাকার কর অঞ্চল-১০, মৌসুমী বর্মনকে কর পরিদর্শন অধিদপ্তরে, মো. আবদুর রাজ্জাককে ঢাকার কর অঞ্চল-১৬, মো. জসীমুদ্দিন আহমেদকে ঢাকার কর অঞ্চল-১২, তারিক ইকবালকে ঢাকার কর অঞ্চল-৭, মো. ফারুকুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-২, মাসুম বিল্লাহকে ঢাকার কর অঞ্চল-২১, সারোয়ার মোর্শেদকে ঢাকার কর অঞ্চল-২৩, মাসুদুল করিম ভূঁইয়াকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৮,

মেহেদী হাসানকে ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-১, হাছিনা আক্তারকে চট্টগ্রামের কর আপিল অঞ্চল, শান্ত কুমার সিংহকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৭, রিগ্যান চন্দ্র দে-কে বিসিএস (কর) একাডেমি, ফারজানা নাজনীনকে কুমিল্লা কর অঞ্চল, সুমন দাসকে এনবিআরে প্রথম সচিব, শেখ মো. কামরুজ্জামানকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তর, তাপস কুমার চন্দকে বৃহৎ করদাতা ইউনিট, মো. মোশাররফ হোসেনকে দিনাজপুর কর অঞ্চল, মো. আব্দুল মালেককে ঢাকার কর অঞ্চল-৫ ও আরিফুল হককে রাজশাহী কর অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়াও একই আদেশে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল—০৪ এর পরিদর্শী রেঞ্জ—২ কে পরিদর্শী রেঞ্জ—১ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১৮ আগস্ট সব মিলিয়ে ৯ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা হলেন—এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী; আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সোহেলা সিদ্দিকা; ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এর অতিরিক্ত কমিশনার সুলতানা হাবীব; সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু; মোংলা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান; চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং অ্যাকাডেমির যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির; ফরিদপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিস খান; দিনাজপুরের কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এর যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া এবং খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

গত মে ও জুন মাসে এনবিআরে যে আন্দোলন হয়েছে, বরখাস্ত সবাই ওই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। কেউ কেউ নেতৃত্বও দিয়েছেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন হয়।

১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুটি বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি হয়। এরপর থেকে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক সংস্কারে দাবিতে প্রায় দেড় মাস আন্দোলন করেন।

২৮ ও ২৯ জুন সারা দেশে কাজ বন্ধ করে দেন তাঁরা। এরপর ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তাঁরা। এরপরই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। আন্দোলন প্রত্যাহারের পর কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করা হয়েছে। ৩৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এনবিআরের ৪১ অতিরিক্ত কমিশনারকে বদলি

আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

একদিনেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৪১ অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এনবিআরের কর প্রশাসন থেকে এ—সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সই করেছেন প্রথম সচিব (কর প্রশাসন) মো. মোসাদ্দেক হুসেন।

অবিলম্বে তাঁদেরকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের বদলির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি আদেশে।

বদলি আদেশের তালিকায় রয়েছেন—বিসিএস (কর) একাডেমির পরিচালক হাফিজ আল আসাদকে ঢাকার কর অঞ্চল-২০-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১, শেখ শামীম বুলবুলকে নরসিংদী কর অঞ্চল, ছায়িদুজ্জামান ভুঞাকে নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চল, বেগম হাসিনা আক্তার খানকে গাজীপুর কর অঞ্চল, মর্তুজা শরিফুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-৬, মোহা. আব্দুস সালামকে ঢাকার কর অঞ্চল-১, মো. নাসেরুজ্জামানকে ঢাকার অঞ্চল-২, মো. মিজানুর রহমানকে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-১, মো. নাঈমুর রসুলকে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-২, ফখরুল ইসলামকে খুলনা কর অঞ্চল,

আশরাফুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-৩, মোহাম্মদ শাহ্ আলমকে ঢাকার কর অঞ্চল-৪, মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাতকে ঢাকার কর অঞ্চল-১১, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে খুলনা কর আপিল অঞ্চল, মিজানুর রহমানকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৫, মো. মঈনুল হাসানকে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, ইভানা আফরোজ সাঈদকে ঢাকার কর অঞ্চল-৮, তাহমিনা আক্তারকে ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-৩, শামীমা পারভীনকে এনবিআরের সিআইসি।

এছাড়া সাহেদ আহমেদ চৌধুরীকে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে, ফারজানা সুলতানাকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৪, শামীমা আখতারকে ঢাকার কর অঞ্চল-১০, মৌসুমী বর্মনকে কর পরিদর্শন অধিদপ্তরে, মো. আবদুর রাজ্জাককে ঢাকার কর অঞ্চল-১৬, মো. জসীমুদ্দিন আহমেদকে ঢাকার কর অঞ্চল-১২, তারিক ইকবালকে ঢাকার কর অঞ্চল-৭, মো. ফারুকুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-২, মাসুম বিল্লাহকে ঢাকার কর অঞ্চল-২১, সারোয়ার মোর্শেদকে ঢাকার কর অঞ্চল-২৩, মাসুদুল করিম ভূঁইয়াকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৮,

মেহেদী হাসানকে ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-১, হাছিনা আক্তারকে চট্টগ্রামের কর আপিল অঞ্চল, শান্ত কুমার সিংহকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৭, রিগ্যান চন্দ্র দে-কে বিসিএস (কর) একাডেমি, ফারজানা নাজনীনকে কুমিল্লা কর অঞ্চল, সুমন দাসকে এনবিআরে প্রথম সচিব, শেখ মো. কামরুজ্জামানকে কর পরিদর্শন পরিদপ্তর, তাপস কুমার চন্দকে বৃহৎ করদাতা ইউনিট, মো. মোশাররফ হোসেনকে দিনাজপুর কর অঞ্চল, মো. আব্দুল মালেককে ঢাকার কর অঞ্চল-৫ ও আরিফুল হককে রাজশাহী কর অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়াও একই আদেশে চট্টগ্রামের কর অঞ্চল—০৪ এর পরিদর্শী রেঞ্জ—২ কে পরিদর্শী রেঞ্জ—১ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১৮ আগস্ট সব মিলিয়ে ৯ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা হলেন—এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী; আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সোহেলা সিদ্দিকা; ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এর অতিরিক্ত কমিশনার সুলতানা হাবীব; সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু; মোংলা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান; চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং অ্যাকাডেমির যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির; ফরিদপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিস খান; দিনাজপুরের কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এর যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া এবং খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

গত মে ও জুন মাসে এনবিআরে যে আন্দোলন হয়েছে, বরখাস্ত সবাই ওই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। কেউ কেউ নেতৃত্বও দিয়েছেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন হয়।

১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুটি বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি হয়। এরপর থেকে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক সংস্কারে দাবিতে প্রায় দেড় মাস আন্দোলন করেন।

২৮ ও ২৯ জুন সারা দেশে কাজ বন্ধ করে দেন তাঁরা। এরপর ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তাঁরা। এরপরই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। আন্দোলন প্রত্যাহারের পর কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করা হয়েছে। ৩৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।